
কানের ভেতরে জমে থাকা ময়লা দেখলেই অনেকের অস্বস্তি লাগে। কেউ তুলার কাঠি ঢোকান, কেউ আবার নানা যন্ত্র ব্যবহার করে নিয়মিত পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। যেন কানের ময়লা মানেই শরীরের অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য। আপনি ভাবছেন, এতে কানে জমা ময়লা পরিষ্কার হয়। কিন্তু এমনটা মোটেও হয় না, বরং এতে আপনার কানের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ওটোল্যারিঙ্গোলজি, হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, শরীর নিজে থেকেই কানের ভিতরের ‘ময়লা’ পরিষ্কার করে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, কানের এই ময়লাকে বলা হয় ‘ইয়ারওয়াক্স’ বা সেরুমেন। এটি কানের ভেতরের গ্রন্থি থেকে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়। দেখতে আঠালো বা মোমের মতো হলেও এর কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কানের ভেতরে ধুলাবালি, জীবাণু, ক্ষতিকর কণা ও ছোট পোকামাকড় প্রবেশে বাধা দেয়। একই সঙ্গে কানের ভেতরের ত্বক আর্দ্র রাখে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
চিকিৎসকদের মতে, কানের ময়লায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানও থাকে, যা ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। অর্থাৎ এটি শুধু ময়লা নয়, বরং কানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনেকটা দরজার সামনে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর মতো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ অবস্থায় কান নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করতে সক্ষম। কথা বলা, চিবানো বা চোয়াল নড়াচড়ার সময় কানের ভেতরের পুরোনো ময়লা ধীরে ধীরে বাইরে চলে আসে। তাই অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা করে কান পরিষ্কার করার প্রয়োজন পড়ে না।
বরং অতিরিক্ত পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক সময় বিপদ বাড়ে। কটন বাড বা সরু বস্তু ব্যবহার করলে ময়লা আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। এতে কানে ব্লক তৈরি হয়, কমে যেতে পারে শ্রবণক্ষমতা। এমনকি কানের পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চিকিৎসকেরা তাই কানের ভেতরে কিছু প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
তবে সব ধরনের কানের ময়লাই যে স্বাভাবিক, তা নয়। যদি অতিরিক্ত ময়লা জমে কান বন্ধ হয়ে যায়, ব্যথা হয়, শোনার সমস্যা দেখা দেয় বা কানে অস্বাভাবিক শব্দ হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে নিজে খোঁচাখুঁচি না করে বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিরাপদ উপায়ে পরিষ্কার করাই ভালো।
মন্তব্য করুন