
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দেয়
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক উপস্থাপকের মাধ্যমে তার এই বার্তা প্রচার করা হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন নতুন এই নেতা।
বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে দেশ কখনোই পিছিয়ে থাকবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রতিশোধ কেবল ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শত্রুদের হাতে নিহত প্রতিটি নাগরিকের জন্য আলাদাভাবে বিচার ও প্রতিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি। খামেনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, তেহরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অঞ্চলের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দ্রুত বন্ধ করতে হবে; অন্যথায় সেসব ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকতে পারে।
হরমুজ প্রণালী নিয়েও বক্তব্য দেন মোজতবা খামেনি। তার মতে, শত্রুদের ওপর চাপ বাড়াতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ রাখার কৌশল অব্যাহত রাখা উচিত, বিশেষ করে শিশুদেরসহ নিহতদের রক্তের প্রতিশোধের বিষয়টি সামনে রেখে।
তিনি আরও জানান, ইয়েমেন ও ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরানকে সমর্থন জানিয়েছে। তার ভাষায়, ইরাকের কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং ইয়েমেনের প্রতিরোধ শক্তিও এই অবস্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
এ সময় দেশের সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। খামেনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতি ও বহুমুখী চাপের মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার জন্য তিনি ইরানের যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানা যায়। এরপর ৮ মার্চ ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস—যা ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিষদ—ভোটের মাধ্যমে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো তিনি সরাসরি জনসমক্ষে আসেননি।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস তিনজন ইরানি ও দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার সূত্রে জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন