যাত্রা শুরু হলো বহু আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের। সরকারি ও বিরোধী দলের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সূচনা হয়েছে সংসদ কার্যক্রমের। গণতন্ত্র, সাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিরা। সংসদ নেতা, নবনির্বাচিত স্পিকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের না হয়ে দেশ এবং মানুষের কল্যাণে সংসদকে কার্যকর করার।
প্রেসিডেন্টের ভাষণ ঘিরে হট্টগোল ও বিরোধীদের ওয়াকআউট ছাড়া অধিবেশনের প্রথম দিন ছিল অংশগ্রহণমূলক, প্রাণচঞ্চল ও সহযোগিতামূলক। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ও ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে নতুন এই সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ফ্যাসিবাদী আমলের এক তরফা সংসদে খিস্তি খেউর ও বিরোধীদের চরিত্র হননের সংস্কৃতির বিপরীতে নতুন সংসদ বিরল নজির তৈরি করেছে।
প্রথম দিনের সূচনা বক্তব্যে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা ইতিবাচক বক্তব্য রেখেছেন। কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। দেশের কল্যাণে নেয়া কর্মসূচিতে একে-অন্যকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসক গোষ্ঠী নিয়ে কোনো খিস্তিখেউর ছিল না। এমনকি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিয়ে সরকার বা বিরোধী দলের কেউ একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া একটি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম একবার উচ্চারণ হয় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের মুখে। ৫৮৪ দিনের দীর্ঘ বিরতি দিয়ে কার্যকর হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনটি ছিল নানা দিক থেকে ব্যতিক্রম। প্রথম বার এমপি এবং সংসদ নেতা হওয়া তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদের প্রথম দিনটি ছিল ঘটনাবহুলও। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সংসদ নেতা তারেক রহমান সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। তখন এমপিরা তাকে টেবিল চাপড়ে অভিবাদন জানান। হাস্যোজ্জ্বল তারেক রহমান চারপাশে তাকিয়ে নিজের আসনে বসেন। এর মধ্য দিয়ে বাবা, মায়ের পর তারেক রহমান পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন