Admin
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:১৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

২ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক অধ্যাপক কামরুলের

একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে টানা সেবায় সম্পন্ন হলো ২ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন—তাও কোনো সার্জন ফি ছাড়াই। মানবিক এই অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। রাজধানীর শ্যামলীতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালেই গত মঙ্গলবার সফলভাবে সম্পন্ন হয় দুই হাজারতম কিডনি প্রতিস্থাপন।
সিকেডি হাসপাতাল সূত্র জানায়, কিডনি প্রতিস্থাপনের সময় একসঙ্গে দুটি অপারেশন থিয়েটারে কিডনিদাতা ও গ্রহীতার অস্ত্রোপচার করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে প্রায় ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা। প্রতিদিন একটির বেশি প্রতিস্থাপন সম্ভব হয় না। ১১ জন চিকিৎসকসহ মোট ২১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম এ কাজে যুক্ত থাকে। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যার সফলতার হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে ছয় দিনই তাঁকে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হয়। এরপরও রোগীর চাপ কমে না। অনেক সময় দেখা যায়, শতাধিক রোগী অপেক্ষায় থাকেন। মাসে গড়ে ২৫টি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়, ফলে সবাইকে সেবা দিতে সময় লেগে যায় কয়েক মাস।
বিদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে যেখানে ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এখানেই শেষ নয়—প্রতিস্থাপনের পর রোগীদের ফলোআপ চিকিৎসাও দেওয়া হয় বিনামূল্যে। কোনো ভিজিট ফি বা রোগ নির্ণয়ের ফি নেওয়া হয় না। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
নিজের কাজের বিষয়ে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, “আমার আয়ও আল্লাহর দান। এক-দুটি ভিজিট না নিলে কিছু আসে যায় না। আমি চাই, যতটুকু পারি রোগীদের কষ্ট আর দুশ্চিন্তা কমাতে। রোগীর উপকার করতে পারলেই আমার কাজটা ইবাদতে পরিণত হয়।”
২০১৪ সালে নিজের সঞ্চয় ও বন্ধুদের সহায়তায় শ্যামলীতে সিকেডি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। শুরু থেকেই ৪০০ টাকা ফিতে রোগী দেখলেও অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কোনো ভিজিট নেন না। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৪৫০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। পাশাপাশি সব স্টাফ ও ভর্তি রোগীদের জন্য দিনে তিন বেলা বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করা হয়।
অধ্যাপক কামরুল ইসলামের মানবিক মানসিকতার পেছনে রয়েছে তাঁর মায়ের বড় ভূমিকা। তাঁর মা অধ্যাপিকা রহিমা খাতুন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বামীকে হারান। এরপর নিজেই পড়াশোনা চালিয়ে চার সন্তানকে মানুষ করেন। সন্তানের সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমি শুধু চেয়েছি, কামরুল যেন মানুষের সেবা করেই জীবন কাটায়। আল্লাহ যেন ওকে দীর্ঘ হায়াত দেন, শুধু মানুষের উপকারের জন্য।”

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলা ১২ মাসের নাম বলতে পারলেন না ডাকসু নেতা মোসাদ্দেক

উচ্চ শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা:শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ-সিতারা খান শিক্ষা বৃত্তি

নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

মধ্যরাতে দুই ভূমিকম্পে কাপল দেশ, উৎপত্তিস্থল ছিল কোথায়?

ডিপফেক ভিডিও আর এআই কি ভোটারদের বিভ্রান্ত করবে?

নির্বাচনী প্রচারণা কি শুধু ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘জান্নাতের টিকেটেই’ সীমাবদ্ধ?

লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন ১৩ উপদেষ্টা

লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন ১৩ উপদেষ্টা

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন নরেন্দ্র মোদি

১০

অপরাধ করলেই গ্রেপ্তার, অনুমতি লাগবে না আইজিপির সঙ্গে মাঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক

১১

সাবেক উপদেষ্টাদের সময় দিতে চায় না সরকার

১২

মাদকবিরোধী অপারেশনে আমি নিজে নামব: আমানউল্লাহ আমান

১৩

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে নতুন কমিশন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

১৪

মেট্রোরেল ও ট্রেন ভাড়ায় ২৫% ছাড় পাবে শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণরা। শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী।

১৫

নতুন আশার সূচনা: প্রাণবন্ত পরিবেশে শুরু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা

১৬

মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ না হলে হামলা অব্যাহত থাকবে: কড়া বার্তা খামেনি

১৭

ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল

১৮

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

১৯

৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০