ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এবার ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়ার ‘আলাবুগা স্টার্ট’সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশি অভিবাসীদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাদের অস্ত্র কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা হয় কিংবা যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মিশর, ইরাক, নাইজেরিয়া ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের স্বল্প প্রশিক্ষণে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। অনেককে কার্যত ‘কামানের খোরাক’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে প্রতিদিন গড়ে ২০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড। এপ্রিলেও এই হামলার ধারা অব্যাহত ছিল। এ কারণে ড্রোন উৎপাদনকারী ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পাভেল নিকিতিন নামে এক ব্যক্তির নাম রয়েছে, যার কোম্পানি রাশিয়ার বহুল ব্যবহৃত ‘ভিটি-৪০’ ড্রোন তৈরি করে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও চীনভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা রাশিয়াকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছিল।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, অসহায় মানুষদের শোষণ করে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত নৃশংস কাজ। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা হবে এবং রাশিয়ার ড্রোন কারখানায় অবৈধ সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধে চাপ বাড়ানো হবে।
তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ প্রয়োগও চলবে।
এদিকে, ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ নামের নতুন নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর আওতায় প্রথমবারের মতো এ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম উদ্যোগ যেখানে সরাসরি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন