ড: তারনিমা ওয়ারদা আন্দালিব, এবং দাউদ ইব্রাহিম হাসান
“শোনো রে বাংলার সচেতন ভোটার সমাজ, শোনো রে এই আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশের
কারিগরেরা—তোমরা কি ভেবেছ চোখের সামনে দেখা ভিডিও কিংবা কানে শোনা প্রিয় নেতার কণ্ঠস্বরটিই ধ্রুব
সত্য? না! প্রযুক্তির এই মায়াবী জমানায় আজ সত্য আর মিথ্যার দেয়াল কাঁচের মতো স্বচ্ছ হয়ে গেছে। ৫ই
আগস্টের পর আমরা যে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাইছি, সেখানে কেন আজ ‘ডিপফেক’ আর ‘এআই’ হবে
চরিত্রহননের অস্ত্র? যখন তোমার প্রিয় নেতার মখু দিয়ে এমন কথা বলানো হবে যা তিনি কোনোদিন বলেননি,
কিংবা যখন কোনো ভুয় তথ্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেওয়া হবে—তখন কি আর অবশিষ্ট থাকবে তোমার
বিচারবদ্ধিু র স্বাধীনতা? জেগে ওঠো আজই! কারণ এআই যদি হয় অগ্রগতির চাবিকাঠি, তবে সেই এআই আজ
স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে হয়ে দাঁড়িয়েছে গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরার এক ডিজিটাল ফাঁস। পর্দার পেছনের এই
জালিয়াতি চিনতে না পারলে, তোমার মল্যবান ূ ভোটটি হবে এক অদশ্য ৃ প্রতারণার শিকার!”
২০২৬ সালের বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বদ্ধিু মত্তা বা AI এক নতুন উপদ্রব
হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ আমাদের জীবন সহজ করলেও নির্বাচনি ময়দানে এর অপব্যবহার
গণতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্স ২০২৬ এবং অক্সফোর্ড ইন্টারনেট
ইনস্টিটিউট-এর প্রতিবেদন অনযায়ী ু , উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার প্রায় ৪৬.৭% এখন
এআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্রটি আরও শংকাজনক। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ
কমিশন (BTRC)-এর ২০২৬ সালের জানয়া ু রি মাসের ডাটা অনযায়ী ু , গত এক বছরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া
রাজনৈতিক কন্টেন্টের ৩২.৫% ছিল এআই জেনারেটেড বা কৃত্রিমভাবে তৈরি। এই তথ্য নির্দেশ করে যে, আমরা
এক ডিজিটাল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।
বাস্তবিক এআই জালিয়াতির এই রূপরেখাটি বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নির্বাচনি স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এক
ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থীর কণ্ঠ হুবহু নকল করে বিতর্কিত ডিপফেক অডিও, ধর্মীয় নেতাদের নামে
ভুয়া ফতোয়া, এবং সুপরিচিত সংবাদ পাঠিকার এআই অবতার ব্যবহার করে বানোয়াট নিউজ বলেু টিন প্রচারের
মাধ্যমে জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন