এক বছরের শিশুকন্যার জটিল জন্মগত হৃদরোগ। চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়ে দিয়েছিলেন—বাংলাদেশে এই অপারেশন সম্ভব নয়, যেতে হবে বিদেশে। দিশেহারা মা তখনও হাল ছাড়েননি। শেষ আশার আলো খুঁজতে ছুটে যান খ্যাতনামা শিশু হৃদরোগ সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতা উল্লাহ (বিপ্লব)–এর কাছে। সেখানেই ঘটে যায় আশার জয়।
লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা এক বছরের শিশু রাধিকা। জন্ম থেকেই শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা ও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার সমস্যায় ভুগছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার হৃদযন্ত্রে একাধিক জটিলতা—Large VSD with Bi-directional Shunt, ASD Secundum এবং PDA। শিশুটির ওজন মাত্র ৫ কেজি হওয়ায় অপারেশন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শিশুটিকে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার–এ ভর্তি করা হয়। সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ডা. বিপ্লব নিজেই অপারেশনের দায়িত্ব নেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নিখুঁত পরিকল্পনার পর ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সফলভাবে জটিল হৃদযন্ত্রের অপারেশন সম্পন্ন হয়।
অপারেশনের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ সুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
শিশুটির মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
আমাকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে আমার মেয়ের চিকিৎসা সম্ভব নয়। বিদেশে নেওয়ার সামর্থ্য আমার ছিল না। বিপ্লব স্যার হাল না ছেড়ে আমার সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমি ও আমার পরিবার তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
এই সাফল্য প্রসঙ্গে ডা. মোহাম্মদ আতা উল্লাহ (বিপ্লব) বলেন,
আলহামদুলিল্লাহ, আমি যতটি অপারেশন সাকসেসফুলি করেছি—সবাই এখনো ভালো ও সুস্থ রয়েছে। এই সাফল্য একান্তই আল্লাহর রহমত। আমার সাফল্য মানুষের কল্যাণে যেন নিয়োজিত থাকতে পারি—এটাই আমার প্রত্যাশা।
ডা. মোহাম্মদ আতা উল্লাহ (বিপ্লব) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়(বিএমইউ)–এর কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ চিকিৎসায় একজন অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত সার্জন। দেশের ভেতরেই জটিল শিশু হৃদরোগের সফল চিকিৎসায় তিনি ইতোমধ্যে আস্থা ও সম্মান অর্জন করেছেন।
মন্তব্য করুন