dailypacific
২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:০৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নতুন ভূমি আইনে সতর্কতা

নতুন ভূমি আইন কার্যকর হওয়ার পর জমির মালিকদের জন্য সতর্ক থাকা এখন সময়ের দাবি। শুধু জমির দখলে থাকলেই আর মালিকানা নিরাপদ থাকে না; আইনের চোখে বৈধ প্রমাণ হিসেবে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় দলিলের ঘাটতি থাকলে ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি চিরতরে জমি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভূমি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি কেনা-বেচার সময় রেজিস্ট্রার অফিসে নিবন্ধিত দলিলই মালিকানার মূল ভিত্তি। এর পাশাপাশি আগের মালিকদের বায়া দলিলও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জেলা রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংগ্রহ করা যায়। এসব দলিল সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে পরবর্তীতে মালিকানা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। জমির সরকারি নথি হিসেবে পর্চা ও খতিয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে জমির সীমানা, অবস্থান, দখল ও মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। খতিয়ানে নাম না থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের রশিদ, যা দাখিলা নামে পরিচিত, জমির বৈধ দখলের অন্যতম প্রমাণ। নিয়মিত দাখিলা না থাকলে জমি বিক্রির সময় কিংবা মালিকানা যাচাইয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেলে ওয়ারিশ সনদ অথবা আদালতের সাকসেসন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়, যা নিশ্চিত করে যে জমিটি আইনগতভাবে উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি বা মিউটেশন সম্পন্ন না হলে নতুন মালিকের অধিকার পূর্ণতা পায় না।
ভূমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট রায় বা ডিক্রি চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য হয় এবং ভবিষ্যতে মালিকানা দাবিতে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মৌজা ম্যাপ ও খণ্ডচিত্র জমির সঠিক অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণে সহায়ক, যা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ফিতে সংগ্রহ করা যায়। আইন অনুযায়ী জোরপূর্বক দখলের কোনো স্বীকৃতি নেই; বৈধ কাগজপত্র ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধের মাধ্যমেই জমির দখল আইনি স্বীকৃতি পায়।
বর্তমান ভূমি আইনের বাস্তবতায় এসব গুরুত্বপূর্ণ দলিল অবহেলা করলে শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্মের অর্জনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা মামলা এড়াতে এখনই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, যাচাই ও নিরাপদে সংরক্ষণ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান : আব্বাস আরাগচি

ফোনের দাম কমাতে আমদানিতে শুল্ক ৬০ শতাংশ কমাল এনবিআর

মধ্যরাতে দুই ভূমিকম্পে কাপল দেশ, উৎপত্তিস্থল ছিল কোথায়?

ডা. আতা উল্লাহ বিপ্লবের অভাবনীয় সাফল্য—বিদেশে নয়, দেশেই জীবন ফিরে পেল এক বছরের রাধিকা

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন

নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন সফল ব্যাংকার জাহাঙ্গীর আলম

ঝলমলিয়ায় ট্রাকচাপায় নিহত ৪

মোজা পরেও পা ঠান্ডা? বড় রোগের সতর্ক সংকেত

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সার্কের গভীর শোক

ময়মনসিংহে মাজারে ভাঙচুর ও মলমূত্র নিক্ষেপ, এলাকায় উত্তেজনা

১০

ঢাকাসহ দেশে শীত আরও বাড়ার আভাস

১১

ভোটের আগেই চমক, বরিশালে হাজার কোটি আয়ের প্রশ্ন

১২

মেক্সিকোর দক্ষিণে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ১৩

১৩

৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমার সুযোগ

১৪

ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট জাপানের, প্রতিরক্ষা খাতে নজিরবিহীন বরাদ্দ

১৫

২ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক অধ্যাপক কামরুলের

১৬

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

১৭

সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজে আগুন

১৮

স্বদেশে তারেক রহমান, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ার বিশ্লেষণ

১৯

ঢাকায় শীতের দাপট, তাপমাত্রা নেমেছে ১৩ ডিগ্রিতে

২০